আমাদের কোন আপডেট মিস না করতে গুগল নিউজে ফলো করতে এখানে ক্লিক করুন

১৮ বছর বয়স কবিতার অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন-১. কবিতার বিষয়বস্তু হিসেবে সুকান্ত ভট্টাচার্য কেন আঠারো বছর বয়সকে নির্ধারণ করেছেন?
উত্তর: তারুণ্যের প্রতীক হিসেবে কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য আঠারো বছর বয়সকে কবিতার বিষয়বস্তু হিসেবে নির্ধারণ করেছেন । আঠারো বছর বয়স হচ্ছে কৈশোর থেকে তারুণ্যে পদার্পণের সময়। বয়সটি যেমন উত্তেজনা, আবেগ ও উচ্ছ্বাসে ভরপুর তেমনি দুঃসাহসিক ঝুঁকি · নেওয়ার ক্ষেত্রেও উপযুক্ত। পুরোনো ও জরাজীর্ণতাকে ভেঙে ফেলে নতুন সমাজ, নতুন পৃথিবী গড়ে তুলতে তাই আঠারো বছর বয়সের তরুণের বিকল্প নেই । কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য উল্লেখিত বিষয় বিবেচনা করেই আঠারো বছর বয়সকে কবিতার বিষয়বস্তু হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।

প্রশ্ন-২. আঠারো বছর বয়সকে কেন মানবজাতির উত্তরণকালীন সময় বলা হয়?
উত্তর: ‘আঠারো বছর বয়স’ হচ্ছে কৈশোর থেকে যৌবনে পদার্পণের সময় বলে আঠারো বছর বয়সকে মানবজাতির উত্তরণকালীন সময় বলা হয়। ‘আঠারো বছর বয়স’ হচ্ছে মানুষের যৌবনে পদার্পণের সময়। এই সময়ে মানুষের দৈহিক ও মানসিক গঠনে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন সাধিত হয়। মানুষ হয়ে ওঠে সাহসী, আবেগী ও প্রবল উত্তেজনাসম্পন্ন। এই বয়সে মানবচিন্তা ও আচরণের পরিপূর্ণ বিকাশ হয় বলে এই সময়কে মানবজাতির উত্তরণকালীন সময় বলা হয় ।

প্রশ্ন-৩. ‘আঠারো বছর বয়স' কবিতা অনুযায়ী তারুণ্যের আত্মত্যাগ কেমন হওয়া উচিত?
উত্তর: তারুণ্যের আত্মত্যাগ হওয়া উচিত কল্যাণকর দেশসেবামূলক কাজে। তারুণ্য এক অসীম প্রাণশক্তির প্রতীক। দুর্বার গতিসম্পন্ন দুঃসাহসিক তরুণ ইতিবাচক ও নেতিবাচক— দুই ক্ষেত্রেই তার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারে। ‘আঠারো বছর বয়স' কবিতায় কবি এ শুভবোধকেই প্রাধান্য দিয়েছেন বেশি। সমাজ ও মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত হয়েই তরুণদের সর্বশক্তি নিয়োগ করতে হবে। তবেই তারুণ্যের আত্মত্যাগ হবে কেবল শুভ ও মহৎ কাজে।

প্রশ্ন-৪. কীভাবে আঠারো বছর বয়স জাতীয় জীবনের চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে?
উত্তর: ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেই ‘আঠারো বছর বয়স’ জাতীয় জীবনের চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে। হাজারো ইতিবাচক গুণের সমষ্টি নিয়ে 'আঠারো বছর বয়স' 'এক বিশাল শক্তির প্রতীক হয়ে মানবজীবনের চলার পথে ভূমিকা রাখে। জড়, নিশ্চল, বার্থ, জীর্ণ, পুরোনো ও প্রথাবদ্ধ জীবনকে পায়ে ঠেলে নতুন জীবনের পথে এগিয়ে চলে 'আঠারো বছর বয়স'। নতুন স্বপ্নে উদ্দীপিত হয়ে মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত হয়ে আঠারো বছর বয়সি তরুণরা তাদের উদ্দীপনা, সাহসিকতা ও চলার দুর্বার গতিকে যথোপযুক্তভাবে প্রয়োগ করে। আর এভাবেই সে হয়ে ওঠে জাতীয় জীবনের চালিকাশক্তি।

প্রশ্ন-৫. 'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় কবি তরুণদের প্রাণের কোন চিত্র তুলে ধরেছেন? বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: আঠারো বছর বয়স' কবিতায় কবি তরুণদের সংবেদনশীলতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে অনুভূতির তীব্রতা তুলে ধরেছেন। আঠারো বছর বয়সে তরুণরা নিজেদের চারপাশের অন্যায়-অত্যাচার, শোষণ-পীড়ন, সামাজিক বৈষম্য ও ভেদাভেদ ইত্যাদি অনাচার দেখে প্রতিবাদী হয়ে ওঠে। এ বয়সে তরুণদের অনুভূতির তীব্রতা ও সুগভীর সংবেদনশীলতা প্রকট হওয়ায় মনোজগতে বিভিন্ন বিষয়ে গভীর প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কবি কবিতায় সে চিত্রই তুলে ধরেছেন।

প্রশ্ন-৬. 'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় কবির যে অনুভবের প্রকাশ ঘটেছে তা নিজের ভাষায় লেখো।
উত্তর: 'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় কবি এ বয়স সম্পর্কে আপন অনুভবের প্রকাশ ঘটিয়েছেন। কবি আঠারো বছর বয়সকে বহু ইতিবাচক বৈশিষ্ট্যে চিহ্নিত করেছেন। তিনি অনুভব করেছেন, প্রগতি ও অগ্রগতির পথে নিরন্তর ধাবমানতাই এ বয়সের অন্যতম চেতনা। কিছু নেতিবাচক দিক থাকলেও এ বয়সের আছে সমস্ত দুর্যোগ আর দুর্বিপাক মোকাবিলা করার অদম্য শক্তি। সর্বোপরি কবির অনুভবে আঠারোর জয়গানই গীত হয়েছে।

প্রশ্ন-৭. আমাদের দেশের তরুণরা জাতীয় জীবনের চালিকাশক্তি হতে পারছে না কেন?
উত্তর: তারুণ্যের নেতিবাচক দিকগুলোর দ্বারা বেশি প্রভাবিত হওয়ায় এদেশের তরুণরা জাতীয় জীবনের চালিকাশক্তি হতে পারছে না। তরুণদের কানে চারপাশ থেকে নানা ধরনের মন্ত্রণা ভেসে আসে। তাই এসময় সিদ্ধান্তহীনতা ও বিভ্রান্তির কারণে তাদের পক্ষে ঠিকভাবে জীবনের হাল ধরে রাখা কষ্টকর হয়ে পড়ে। আর যদি এসব নেতিবাচকতা তাদের বেশি প্রভাবিত করে ফেলে তবে তারা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌছাতে ব্যর্থ হয়। দেশ ও জাতির জন্যে তারা কোনো অবদান রাখতে কিংবা জাতীয় জীবনের চালিকাশক্তি হতে পারে না।

প্রশ্ন-৮. আঠারো বছর বয়সের সঙ্গে স্পর্ধা শব্দটি জড়িয়ে আছে কেন? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর : আঠারো বছর বয়স সকল নিয়মকে ভঙ্গ করে বলেই তার সঙ্গে স্পর্ধা শব্দটি জড়িয়ে আছে। আঠারো বছর বয়সকে কবি দুঃসহ বলেছেন; কারণ এ বয়স কোনো নিয়মে আবদ্ধ থাকে না। সকল বাধাকে অতিক্রম করে এ বয়স তীব্রবেগে সামনের দিকে এগিয়ে চলে; আর এ চলায় কোনো সমীহ থাকে না। তাই আঠারো বছর বয়সের সঙ্গে স্পর্ধা শব্দটি জড়িয়ে আছে।

প্রশ্ন-৯. কবি চেতনায় আঠারো বছর বয়সকে প্রত্যাশার কারণ কী? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর : কবি চিরতারুণ্যকে তাঁর মধ্যে ধারণ করেন বলেই আঠারো বছর বয়সকে প্রত্যাশা করেন। আঠারো বছর বয়স পৃথিবীর সকল অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলে। এক্ষেত্রে তারা কিছুটা ঝুঁকি নেয় সত্য, তবে শেষ পর্যন্ত বিজয় ছিনিয়ে আনে। প্রবল গতিশীলতার কারণে এ বয়সিরা অনেক সময় বিপদের কারণ ঘটায়। কিন্তু তারপরও এ বয়স তারুণ্যকে অন্তরে ধারণ করে। বলেই কবি আঠারো বছর বয়সকে প্রত্যাশা করেন ।

প্রশ্ন-১০. আঠারো বছর বয়সে জীবনে বিপর্যয় নেমে আসার সম্ভাবনা থাকে কেন?
উত্তর : 'আঠারো বছর বয়সে জীবনের নানা জটিলতা অতিক্রম করতে হয় বলে জীবনে বিপর্যয় নেমে আসার সম্ভাবনা থাকে। ‘আঠারো বছর বয়স' কবিতায় বিপ্লবী কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য আঠারো বছর বয়সের বিচিত্র বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন। জীবনের এই সন্ধিক্ষণে শারীরিক, মানসিক, সামাজিক, রাজনৈতিক নানা জটিলতাকে অতিক্রম করতে হয়। তাছাড়া যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্যে এ বয়স যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি সমূহ বিপর্যয়ের সম্ভাবনাও এ বয়সে বেশি। তাই এ সময় সচেতন ও সচেষ্টভাবে নিজেকে পরিচালনা করতে না পারলে পদস্খলন হতে পারে। জীবনে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসার সম্ভাবনা থাকে ৷

প্রশ্ন-১১. আঠারো বছর বয়সের সাথে দুঃসাহসের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করো।
উত্তর : সৃষ্টিশীল মানসিকতার যে তাড়না তারুণ্যের বুকে তাড়িত হয়, সে বিচারে দেখা যায়— আঠারো বছর বয়সের সাথে দুঃসাহসের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। আঠারো বছর বয়স মানেই তারুণ্য আর সৃষ্টিশীল মানসিকতা। জীর্ণকে ধ্বংসের মাধ্যমে নব সৃষ্টিতেই তারুণ্য বেশি তৃপ্তি লাভ করে। আর এজন্যে প্রয়োজন বুক ভরা দুঃসাহস। আঠারো বছর বয়স দুঃসাহসকে পুঁজি করেই সম্মুখে সমরে অগ্রগামী হয় বলে আঠারো বছর বয়সের সাথে দুঃসাহসের সম্পর্ক চিরদিনের।

প্রশ্ন-১২. ‘শপথের কোলাহল' বলতে কী বোঝানো হয়েছে?— ব্যাখ্যা করো।
উত্তর : ‘শপথের কোলাহল’ দ্বারা প্রতিজ্ঞার ঘনঘটাকে বোঝানো হয়েছে। যারা ভিতু, তারা উদ্দেশ্য গ্রহণ করে আবার পিছুটান দেয়। জীবনের হিসাব তাদের কাছে অগ্রগণ্য। কিন্তু যারা আঠারোর তারুণ্য, তারা যে উদ্দেশ্য গ্রহণ করে একবার, সে উদ্দেশ্য কখনোই বিসর্জন দেয় না। দুরন্ত শক্তি আর সাহস নিয়ে উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের উন্মুখ থাকে। ‘শপথের কোলাহল' দ্বারা তারুণ্যের এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের দুর্বার — মানসিকতাকেই বোঝানো হয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন