আমাদের কোন আপডেট মিস না করতে গুগল নিউজে ফলো করতে এখানে ক্লিক করুন

নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায় কবিতার অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন-১. ‘স্তব্ধতার দেহ ছিঁড়ে কোন ধ্বনি? কোন শব্দ?' উক্তিটি দ্বারা কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: ‘স্তব্ধতার দেহ ছিঁড়ে কোন ধ্বনি? কোন শব্দ?' দ্বারা বাংলার জাগরণকে বোঝানো হয়েছে। যখন শত্রুরা দেশকে জিম্মি করে সমস্ত কিছু শুষে নিচ্ছে, চারদিকে হাহাকার ধ্বনি প্রকম্পিত হতে হতে স্তব্ধতায় নিমগ্ন হয়ে গেছে তখন সমস্ত স্তব্ধতাকে ছাপিয়ে ভেসে আসে জাগরণের ধ্বনি। সে ধ্বনিতে মানুষের মনে শক্তি সঞ্চিত হয়। সে ধ্বনি মানুষকে সাহসী করে তোলে। সেই জাগরিত ধ্বনি মানুষকে শত্রুর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে শেখায়।

প্রশ্ন-২. কবি কেন সকলকে স্থির হয়ে বসার জন্যে মিনতি করেন?
উত্তর: কবি সকলকে সংগঠিত হওয়ার জন্যে স্থির হয়ে বসার মিনতি করেন। অতীতে ঘটে যাওয়া নানা ধরনের সংগ্রামী ইতিহাস কবি সকলকে শোনাতে চান। কারণ অতীতের সেইসব ঘটনার সাথে বর্তমানের বিপদের মিল রয়েছে। কবি চান অতীতের সে ঘটনাগুলো শুনে মানুষ প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হোক। তাই কবি মিনতি করেন সকলে যেন ঘন হয়ে উপস্থিত হয় এবং স্থির হয়ে বসে কবির কথা শুনে শত্রুর বিরুদ্ধে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করে।

প্রশ্ন-৩. ‘নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়' কবিতায় ইতিহাসের প্রতিটি পৃষ্ঠায়' বলে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: 'নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়' কবিতায় প্রতিটি সংগ্রামের ইতিহাসকে ইতিহাসের প্রতিটি পৃষ্ঠা দ্বারা বোঝানো হয়েছে। কবি সংগ্রামী চেতনার ইতিহাসকে বড় করে দেখতে গিয়ে ইতিহাসের প্রতিটি বিদ্রোহের কথা মনে করেন। ফকির বিদ্রোহ, কৃষক বিদ্রোহ, নীল-বিদ্রোহ, মুক্তিযুদ্ধ ইত্যাদি সব সংগ্রামের ইতিহাস মানুষের মনে লিপিবদ্ধ। ইতিহাসের প্রতিটি পৃষ্ঠায় কবি এসব বিদ্রোহের ইতিহাসের বর্ণনা দেখতে পান।

প্রশ্ন-৪. ‘স্মৃতির দুধ জ্যোৎস্নার সাথে ঝরে পড়ে'— বাক্যে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: ‘স্মৃতির দুধ জ্যোৎস্নার সাথে ঝরে পড়ে'—বলতে কবি অতীত স্মৃতিকে বুঝিয়েছেন । বাংলার মানুষের অতীত ইতিহাস ছিল সংগ্রামের। সেসব স্মৃতি মানুষের মনের স্মৃতিকোঠরে বন্দি। আর জ্যোৎস্নাশোভিত রাতে সে সকল অতীত স্মৃতি মানুষের মনে পুনরায় জেগে ওঠে। নিঃসঙ্গ মানুষ একা একা সে সব স্মৃতিকথা মনে করে অশ্রু বিসর্জন করে। বলা যায় যে, বাংলার সৌন্দর্য যখন জ্যোৎস্নার আলোয় আরো সৌন্দর্যমণ্ডিত হয়, তখন প্রতিটি মানুষই তার অতীত স্মৃতি মনে করে।

প্রশ্ন-৫. 'নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়' কবিতায় অভাগা মানুষ কী প্রত্যাশা করে? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: 'নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়' কবিতায় অভাগা মানুষ নূরলদীনের প্রত্যাবর্তন প্রত্যাশা করে। নূরলদীন প্রতিবাদী চরিত্রের নাম। অভাগা মানুষ আশা করে তিনি একদিন আসবেন। এসে তাদের পাশে দাঁড়াবেন। সমাজে তাদের ওপর যত অত্যাচার, জুলুম, নির্যাতন হচ্ছে তার প্রতিবাদ করবেন। তাদের দুঃখ-দুর্দশা দেখে নূরলদীন তা দূর করবেন। তাই অভাগা মানুষ চায় নূরলদীনের প্রত্যাবর্তন।

প্রশ্ন-৬. নূরলদীন ইতিহাসে বিখ্যাত কেন?
উত্তর: ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে সাহসী ভূমিকার জন্যে নূরলদীন ইতিহাসে বিখ্যাত। নূরলদীনের বাড়ি রংপুরে। তিনি ছিলেন রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের সামন্তবাদ-সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী এক সাহসী কৃষক নেতা। ১৭৮২ সালে তাঁর ডাকে এ অঞ্চলের মানুষ ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। কৃষক নেতা নূরলদীনের এ আন্দোলন-সংগ্রামের কথা ইতিহাসে লিপিবদ্ধ রয়েছে।

প্রশ্ন-৭. ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশ মৃত্যুপুরীতে রূপ নেয় কীভাবে?
উত্তর: ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরতায় বাংলাদেশ মৃত্যুপুরীতে রূপ নেয়। ১৯৭১ সালে পাকস্তানি হানাদার বাহিনী বর্বরতার প্রতিবাদে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এদেশবাসীর ওপর চালায় নির্মম অত্যাচার। তাদের তাণ্ডবে বিধ্বস্ত হয় এই বাংলা। এভাবেই বাংলাদেশ মৃত্যুপুরীতে রূপ নেয়।

প্রশ্ন-৮. কবির কেন এই তীব্র স্বচ্ছ পূর্ণিমায় নূরলদীনের কথা মনে পড়ে?
উত্তর: এমনই এক রাতে বাংলার কৃষকদের সংগ্রামের ডাক দিয়েছিলেন বলে কবির এই তীব্র স্বচ্ছ পূর্ণিমায় নূরলদীনের কথা মনে পড়ে। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে বাংলা তথা ভারতবর্ষের কৃষকরা নানাভাবে নিপীড়িত-শোষিত হচ্ছিল। হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেও তারা অনাহারে থাকত। তার ওপর জমিদারদের অত্যাচার তাদের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছিল। কৃষকরা এসবের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। সেই বিদ্রোহের ডাক দিয়েছিলেন রংপুরের নূরলদীন, এমনই এক স্নিগ্ধ স্বচ্ছ পূর্ণিমার রাতে। এ কারণেই কবির এই তীব্র স্বচ্ছ পূর্ণিমায় নূরলদীনের কথা মনে পড়ে।

প্রশ্ন-৯. বাংলার আঙিনাকে মরা বলা হয়েছে কেন?
উত্তর: অত্যাচারিত হতে হতে বিধ্বস্ত অবস্থা হওয়ায় বাংলার আঙিনাকে 'মরা আঙিনা' বলা হয়েছে। বাংলার মাটি বার বার বিদেশিদের দ্বারা হয়েছ শাসিত। নিরীহ বাংলা বলে পরিচিত এই ভূখণ্ডে বার বার শকুনেরা হানা দিয়েছে। অত্যাচারীর ধ্বংসলীলায় এই অঞ্চল হয়েছে বিধ্বস্ত। বাংলার এমন করুণ অবস্থার প্রেক্ষিতেই এই আঙিনাকে মরা আঙিনা বলা হয়েছে।

প্রশ্ন-১০ 'যখন আমার দেশ ছেয়ে যায় দালালের আলখাল্লায়'- বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: 'যখন আমার দেশ ছেয়ে যায় দালালের আলখাল্লায়'- বলতে কবি ১৯৭১ সালের এদেশের শকুনরূপী দালালদের দৌরাত্ম্যকে বুঝিয়েছেন । আমাদের এই সোনার বাংলা বার বার বিদেশিদের লোলুপতার শিকার হয়েছে। তারা হানা দিয়েছে এ বাংলার সবুজ-শ্যামল প্রান্তরে। তাদের সাহায্য করেছে এদেশেরই কিছু দালাল নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্যে। তাদের জন্যেই দেশ ও জাতি হয়েছে বিপন্ন। উদ্ধৃত অংশ দ্বারা কবি এদেশের মাটিতে দালালদের এমন দৌরাত্ম্যকেই বুঝিয়েছেন।

প্রশ্ন-১১. নূরলদীন কীভাবে চিরায়ত প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে উঠেছেন? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: সংগ্রামী চেতনাময় সাহসী চরিত্র হিসেবে নূরলদীন চিরায়ত প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে উঠেছেন। বাংলার ইতিহাসে নূরলদীন এক প্রতিবাদী নায়ক, বিপ্লবী চেতনার উৎস। তিনি ছিলেন খাঁটি দেশপ্রেমিক। অসীম সাহসিকতা নিয়ে তিনি ব্রিটিশ শক্তির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন। বর্তমান সময়ে দেশের যেকোনো সংকটে নূরলদীন চরিত্রটি আমাদের মনে সাহস ও শক্তি জোগাবে বলে কবির বিশ্বাস। এভাবেই সবরকম শোষণ- নির্যাতনের বিরুদ্ধে নূরলদীন চিরায়ত প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে উঠেছেন।

প্রশ্ন-১২. ‘দালালের আলখাল্লা'— বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: ‘দালালের আলখাল্লা' বলতে কবি বিদেশি শোষকশ্রেণির এদেশীয় দোসরদেরকে বুঝিয়েছেন। যুগে যুগে নানাভাবে আমাদের এই প্রিয় বাংলাদেশ বিদেশিদের লোলুপতার শিকার হয়েছে। আর তাদেরকে সহায়তা করেছে এদেশেরই কিছু বেইমান অমানুষ। নিজেদের ক্ষুদ্রস্বার্থ চরিতার্থ করতে তারা দেশ ও জাতিকে বিপন্ন করেছে, দেশের সম্পদ ও সম্মান নির্দ্বিধায় বিদেশিদের হাতে তুলে দিয়েছে। দেশপ্রেমহীন এসব চরিত্রকে চিহ্নিত করতে কবি দালালের আলখাল্লা' শব্দবন্ধটি ব্যবহার করেছেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন